২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ৪৫ দিনব্যাপী নিয়মিত ইমাম প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় কোর্সের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইমাম বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, সিলেট ও গোপালগঞ্জ কেন্দ্রে এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ৭ কেন্দ্রে শুরু প্রশিক্ষণ; ঢাকায় শুরু ৮ সেপ্টেম্বর, বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৫০ বছর
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি জেলার আওতাধীন থানা/উপজেলা এবং প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ইমাম বাছাই করতে হবে। নির্বাচিত ইমামদের ৪৫ দিনব্যাপী নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।
ইমামদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়ন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।
চিঠি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণার্থীর বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে। একই সঙ্গে তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল হতে হবে। প্রার্থীকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে কমপক্ষে দাখিল বা সমমানের মাদরাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে হাফেজ ও কারিদের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় ভালো জ্ঞান থাকলে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপিও জমা দিতে হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের প্রকৃত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনারের কাছ থেকে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয়নপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমামদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক প্রশিক্ষণ ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
এ জন্য প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন। বিকাশ অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চিঠিতে প্রকৃত ইমামদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা যেন সমাজে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে লক্ষ্যেই যোগ্য ও প্রকৃত ইমামদের বাছাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে ভর্তির পর কোনোভাবে প্রমাণিত হলে যে কোনো প্রশিক্ষণার্থী প্রকৃত ইমাম নন, তাহলে তার ভর্তি বাতিল করা হবে।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের চিঠি।
Leave a Reply