1. admin@haquekotha24.com : admin :
  2. aquekotha24news@gmail.com : Mirazul Islam :
  3. mehedi9313@gmail.com : Mehedi Hasan : Mehedi Hasan
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

আমি তোমাকে ভালোবাসি বাবা

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪১ বার
একজন সন্তানের জীবনে বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন; অনেক সময় তিনিই হয়ে উঠেন সাহস, অনুপ্রেরণা ও নিরাপদ আশ্রয়। পৃথিবীর কোটি মানুষের কাছে লিওনেল মেসি একজন ফুটবল কিংবদন্তি। কিন্তু বাবা হোর্হে মেসির কাছে তিনি ছিলেন সেই ছোট্ট ছেলে, যে প্রতিটি ম্যাচের পর জানতে চাইত, ‘আমি কেমন খেলেছি?’
মেসির জীবনে সেই মানুষ বাবা দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে গত শুক্রবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বাবাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান মেসি। হোর্হের মৃত্যুর পর নতুন করে সামনে এসেছে মেসির জীবনে তার বাবার গভীর প্রভাবের গল্প।
১৯৫৮ সালে রোজারিওর লাস হেরাস এলাকায় জন্ম হোর্হের। দীর্ঘদিন স্টিল কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। স্ত্রী সেলিয়া কুচিত্তিনির সঙ্গে চার সন্তানের সংসারে লিওনেল ছিলেন তৃতীয় সন্তান। মাত্র চার বছর বয়সেই ছেলের মধ্যে বিশেষ প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন হোর্হে। নিজেই তাকে ফুটবলের প্রাথমিক শিক্ষা দিতেন। মাঠে অনুশীলন থেকে ম্যাচ- সবকিছুতেই ছেলের পাশে থাকার চেষ্টা করতেন।
তবে হোর্হের নিজের জীবন ছিল সংগ্রামের। ভোর ৪টায় কাজে বের হতেন, ফিরতেন রাত ৯টায়। ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ছিল খুবই কম। মেসি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সারা দিন বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন। বাবা বাড়ি ফিরলে সেই অল্প সময়টুকুই তার কাছে হয়ে উঠত সবচেয়ে আনন্দের। মেসির প্রতিভা যত স্পষ্ট হতে থাকে, সামনে আসে বড় বাধা।
নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলার সময় তার শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল বড় অঙ্কের অর্থ। পরিবারের পক্ষে সেই খরচ চালানো কঠিন হলেও হোর্হে হাল ছাড়েননি। ছেলের ভবিষ্যতের জন্য বার্সেলোনার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবার নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমান। নতুন দেশ, চিকিৎসার খরচ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ছেলের পাশে ছিলেন। বার্সেলোনায় মেসির প্রথম চুক্তির সেই বিখ্যাত ন্যাপকিনের গল্পের পেছনেও ছিল হোর্হের এই লড়াই।
পরবর্তী সময়ে হোর্হে মেসির ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন। তবে ছেলের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল- প্রথম আদর্শ। ২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসিকে জিগ্যেস করা হয়েছিল, তার আদর্শ কে? কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বাবা হোর্হে।’
বাবার প্রতি মেসির ভালোবাসার সবচেয়ে আবেগঘন উদাহরণ ২০০৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে দেখা যায়। গোল করার পর জার্সি তুলে ভেতরের টি-শার্টে লেখা বার্তা দেখিয়েছিলেন মেসি, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি বাবা।’ সেই সময় হোর্হে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবাকে গোল উৎসর্গ করেই যেন পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন মেসি।
হোর্হের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশের ঘরোয়া ফুটবলে শ্রদ্ধা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় লিগসহ ঘরোয়া ও প্রমোশন লিগের প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড় ও রেফারিরা কালো আর্মব্যান্ড পরার সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কনমেবল, নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন সংগঠনও শোক জানিয়েছে।
মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজ জানিয়েছেন সমবেদনা। ইন্টার মিয়ামিও হোর্হের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। মনতেরের বিপক্ষে লিগস কাপের ম্যাচে মেসি খেলেননি। ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। মেসির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব করা রদ্রিগো দি পল গোল করার পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
হোর্হে মেসির গল্প শুধু একজন ফুটবলারের বাবার গল্প নয়। এটি এমন একজন বাবার গল্প, যিনি নিজের কষ্ট আড়ালে রেখে সন্তানের স্বপ্নকে সামনে রেখেছিলেন। আজ মেসির হাতে বিশ্বকাপ, অসংখ্য ট্রফি আর কোটি মানুষের ভালোবাসা।
কিন্তু সেই সাফল্যের শুরুতে ছিলেন একজন বাবা। যিনি ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস করেছিলেন এবং কঠিন সময়ে তার হাত ছাড়েননি। হোর্হে মেসি আজ নেই। তবে মেসির প্রতিটি অর্জন ও স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন সেই মানুষটি। পৃথিবীর কাছে যিনি ছিলেন মেসির বাবা, আর মেসির কাছে তার প্রথম আদর্শ, প্রথম সমর্থক এবং জীবনের অন্যতম বড় ভালোবাসা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2026 haquekotha24.com
Theme Customized By BreakingNews