
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানে এসেছে দারুণ পরিবর্তন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর নজরদারি, সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সহযোগিতার ফলে সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০ লাখের অধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৩০ জন চিকিৎসক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার সেবার মান নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হতো। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হতো। অনেক রোগীকে যেতে হতো বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ফলে, ভোগান্তিতে পড়তে হতো সেবা নিতে আসা রোগীদের।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এখন হাসপাতালেই মিলছে এক্সরে সেবাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা। এছাড়া, হাসপাতালে খোলা হয়েছে নরমাল ডেলিভারি কক্ষ। এ মাসে ৬ থেকে ৮টি নরমাল ডেলিভারি ও সিজার সম্পন্ন করা হয়েছে। গাইনি সেবা পাওয়ায় উপকৃত হচ্ছেন নারী রোগীরা। এছাড়া, জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন ও সাপের কামড়ের ভ্যাকসিনও পাওয়া যাচ্ছে এখন। বিভিন্ন সেবা ও যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় বেড়েছে চিকিৎসাসেবার পরিধি। বর্তমানে আউটডোর ও ইনডোর উভয় স্থানেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা স্বল্প সময়ে ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং ওষুধ পাচ্ছেন। এতে খুশি রোগী ও স্বজনরা। চিকিৎসাসেবার এই ইতিবাচক পরিবর্তন বজায় থাকলে, এটি উপজেলার অন্যতম সেরা মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল ও সরকারি অর্থায়নে বেশ কিছু নতুন আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও এই কমপ্লেক্সে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে জটিল রোগীদের সহজে জেলা সদর বা রাজধানীতে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না।
গাজীপুর-১আসন সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। যাতে হতদরিদ্র মানুষ দ্রুত সেবা পায় এবং নামধারী কিছু ক্লিনিক অতি ব্যবসা করার সুযোগ না পায়। আগামি ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

