আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরেই ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।সংবাদটির বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় তা হলো, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বর্তমান মূল্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কৃষি, উৎপাদনশিল্প, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, অবকাঠামো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত প্রবৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
প্রধান কৌশল ও উদ্যোগ
ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্প খাত : দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন জাতীয় লজিস্টিকস নীতির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা দিতে জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প, সহজ ‘উদ্যম রেজিস্ট্রেশন’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সেবা ও উদীয়মান খাত : ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস খাতের জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উচ্চপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘পিএম-সেতু’ প্রকল্প।
কৃষি ও বাণিজ্য : কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ এবং জিএসটি ও আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের তথ্য : রাজ্যসভায় আরেকটি প্রশ্নের জবাবে নির্মলা সীতারামন জানান, সারফায়েসি আইন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপির বিপরীতে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে।
তিনি আরও জানান, এসব মামলার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো মোট ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।