যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক (ফুল ফান্ডেড) ‘চেভেনিং স্কলারশিপ’-এর নতুন সেশনের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে এই বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে। যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে ১৯৮৩ সাল থেকে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অর্জন ও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বার্তা
বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৯৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী চেভেনিং স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য বাংলাদেশ থেকে ২২ জন তরুণ পেশাজীবী এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। সফল প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, এই কর্মসূচি দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রতীক এবং বৃত্তিপ্রাপ্তরা দেশে ফিরে সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি
চেভেনিং সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক একটি বৃত্তি। এর আওতায় যুক্তরাজ্যের ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনোটিতে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, যাতায়াতের বিমানভাড়া, মাসিক জীবনযাপন ভাতা এবং আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সকল আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
কাজের অভিজ্ঞতা : আবেদনকারীকে কমপক্ষে দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, খণ্ডকালীন চাকরি বা স্বেচ্ছাসেবী কাজের অভিজ্ঞতাও নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য।
শিক্ষাগত যোগ্যতা : দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের ফলসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
ভাষাগত দক্ষতা : ইংরেজিতে দক্ষতা প্রমাণের জন্য সাধারণত আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬.৫ স্কোর প্রয়োজন হয়।
অন্যান্য গুণাবলি : আবেদনকারীর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা, নেটওয়ার্ক তৈরির দক্ষতা এবং নিজ সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে অন্তত দুই বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আগ্রহী প্রার্থীরা চেভেনিংয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সময় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স কোর্স নির্বাচন করতে হয়। এছাড়া ইংরেজিতে দুটি রেফারেন্স লেটার, পাসপোর্ট বা এনআইডি এবং সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ জমা দিতে হয়। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয় এবং চূড়ান্ত নির্বাচনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার জমা দিতে হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *